অধ্যায় ০১: কোষ ও এর গঠন Cell and its Structure
ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান স্যারের পাঠ্যবই ও জাতীয় শিক্ষাক্রম (NCTB) অনুমোদিত সিলেবাস ভিত্তিক সম্পূর্ণ ইন্টারেক্টিভ ও গভীর ধারণামূলক লেকচার স্লাইড।
রবার্ট হুক, সংজ্ঞা, পরিমাপ ও আদিম কোষের আবির্ভাব।
মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টের উৎপত্তির বৈপ্লবিক রহস্য।
স্লাইডেন, সোয়ান ও ভিরচও-এর কোষতত্ত্ব ও ব্যতিক্রম।
মধ্যপর্দা, প্রাইমারি-সেকেন্ডারি প্রাচীর, কুপ ও প্লাজমোডেজমাটা।
কোষ (Cell) : আবিষ্কার ও নামকরণ Discovery of Cell
১৬৬৫ সালে রবার্ট হুক থেকে শুরু করে আধুনিক ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে কোষীয় অতি-সূক্ষ্ম গঠন আবিষ্কারের কালানুক্রমিক ইতিহাস।
- ১৬৬৫ — রবার্ট হুক (Robert Hooke): রয়্যাল সোসাইটি অব লন্ডনের কিউরেটর। কাঠের কর্ক বা ছিপি (Cork) পর্যবেক্ষণ করে মৌমাছির চাকের মতো ছোট ছোট কুঠুরী দেখতে পান। ল্যাটিন শব্দ Cellula (অর্থ: ছোট কুঠুরী/প্রকোষ্ঠ) থেকে নাম দেন Cell বা কোষ। তাঁর এই পর্যবেক্ষণ Micrographia গ্রন্থে প্রকাশিত হয়।
- ১৬৭৪ — অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক (Antony Van Leeuwenhoek): তিনিই প্রথম সজীব কোষ ও প্রোটোপ্লাজমীয় উপাদান সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন।
- ১৭৮১ — ফেলিস ফন্টানা (Felice Fontana): কোষে নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি প্রথম অনুমান করেন।
- ১৮৩১ — রবার্ট ব্রাউন (Robert Brown): অর্কিড পাতার কোষে সর্বপ্রথম সুস্পষ্ট নিউক্লিয়াস (Nucleus) আবিষ্কার ও নামকরণ করেন।
- ১৮৩৫ — ফেলিক্স ডুজারডিন (Felix Dujardin): কোষের জেলের মতো সজীব উপাদানকে সারকোড (Sarcode) নাম দেন।
- ১৮৪০ — পারকিনজে (Johannes Purkinje): ঐ তরল সজীব পদার্থের নাম দেন প্রোটোপ্লাজম (Protoplasm)।
- ১৯৩১ — আর্নেস্ট রাস্কা ও ম্যাক্স নল: ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের মাধ্যমে কোষের পরা-আণবিক বা অতি-সূক্ষ্ম (Ultra-structure) গঠন উন্মোচন করেন।
কোষের সংজ্ঞা ও পরিমাপ Definitions & Biological Scale
বিজ্ঞানী মহলে গৃহীত প্রামাণ্য সংজ্ঞাসমূহ এবং ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র থেকে বিশালাকার কোষের তুলনামূলক পরিমাপ।
-
জিন ব্র্যাশেট (Jean Brachet, 1961):
"কোষ হলো জীবের গঠনগত ও মৌলিক একক।" -
লোয়ি ও সিকেভিজ (Loewy & Siekevitz, 1963):
"কোষ হলো বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লি (Selectively permeable membrane) দ্বারা সীমাবদ্ধ এবং অন্য কোনো সজীব মাধ্যম ছাড়াই স্বপ্রজননশীল (Self-replicating) জৈবিক ক্রিয়াকলাপের একক।" -
সি. পি. হিকম্যান (C. P. Hickman, 1970):
"কোষ হলো জৈবিক গঠন ও কার্যের একক এবং এটিই ন্যূনতম জৈবিক একক যা নিজের নিয়ন্ত্রণ ও প্রজননে সক্ষম।" -
ডি রবার্টিস (De Robertis, 1979):
"কোষ হলো জীবের মৌলিক গঠনগত ও কার্যগত একক।"
- সবচেয়ে ছোট কোষ: Mycoplasma gallisepticum (ব্যাস প্রায় 0.1 µm), অপর নাম PPLO (Pleuro Pneumonia Like Organism)।
- সবচেয়ে বড় কোষ: উটপাখির ডিম (17 cm × 12.5 cm)।
- উদ্ভিদের দীর্ঘতম কোষ: র্যামি (Boehmeria nivea) উদ্ভিদের বাকলের তন্তু (প্রায় 55 cm)।
- এককোষী বৃহত্তম শৈবাল: Acetabularia (দৈর্ঘ্য 5-10 cm)।
- মানবদেহের দীর্ঘতম কোষ: মোটর নিউরন (দৈর্ঘ্য প্রায় 1.37 মিটার)।
- একটি সাধারণ কোষের আকার: প্রায় 10 µm এবং গড় ওজন 1 ng (ন্যানোগ্রাম)।
কোষের উৎপত্তি ও এন্ডোসিমবায়োসিস Origin of Cell & Endosymbiosis
মিলারের পরীক্ষা, আরএনএ-ওয়ার্ল্ড হাইপোথিসিস এবং কীভাবে অবাত পোষক কোষে পরজীবী ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হয়।
সংজ্ঞা: সুনির্দিষ্ট নিউক্লিয়াসযুক্ত একটি পোষক ইউক্যারিওটিক কোষে অবাত বা বায়বীয় ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে সহাবস্থানের মাধ্যমে টিকে থাকার স্থায়ী জৈব প্রক্রিয়াকে এন্ডোসিমবায়োসিস (Endosymbiosis) বলে।
- প্রথম ধাপ (মাইটোকন্ড্রিয়ার উৎপত্তি): আদি অবাত পোষক কোষে একটি বায়বীয় (aerobic) ব্যাকটেরিয়া ঢুকে পড়ে। কালক্রমে এটি ইউক্যারিওটিক কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria)-তে রূপান্তরিত হয়ে সৃষ্টি করে আদিম হেটারোট্রফিক প্রাণী কোষ।
- দ্বিতীয় ধাপ (ক্লোরোপ্লাস্টের উৎপত্তি): ঐ ইউক্যারিওটিক কোষে পুনরায় সালোকসংশ্লেষী সায়ানোব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে যা কালক্রমে ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast)-এ রূপ নিয়ে অটোট্রফিক উদ্ভিদ কোষ গঠন করে।
- প্রমাণসমূহ: মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্ট উভয়েরই নিজস্ব দ্বি-স্তরীয় ঝিল্লি, আদি কোষীয় 70S রাইবোসোম, এবং নিজস্ব বৃত্তাকার দ্বিসূত্রক ডিএনএ রয়েছে যা তারা স্বাধীনভাবে অনুলিপন করতে পারে!
(Host Eukaryote)
কোষের মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ Core Characteristics of Living Cell
জীববিজ্ঞানের মূল ভিত্তি: সজীব কোষের ১০টি অনন্য বৈশিষ্ট্য যা এটিকে জড় পদার্থ থেকে আলাদা করে।
জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল গাঠনিক ও আণবিক উপাদান (যেমন- প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, লিপিড, নিউক্লিক অ্যাসিড) কোষে বিদ্যমান থাকে।
পরিবেশ থেকে কাঁচামাল গ্রহণ করে তা থেকে শক্তি উৎপাদন (ক্যাটাবলিজম) ও প্রয়োজনীয় জৈব অণু তৈরি (অ্যানাবলিজম) করে।
কোষ জিনগত নির্দেশে সুনির্দিষ্টভাবে ও সুশৃঙ্খল নিয়মে স্বাভাবিক আকারে বৃদ্ধি লাভ করে।
চারপাশের যেকোনো বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তনের প্রতি তাৎক্ষণিক সাড়া প্রদান করতে পারে।
পরিবেশের তারতম্য সত্ত্বেও কোষের অভ্যন্তরীণ স্বাভাবিক ভারসাম্য ও স্থিতি অবস্থা বজায় রাখে (অভ্যন্তরীণ স্থিতি অবস্থা)।
কাল পরিক্রমায় পরিবর্তিত বৈরী পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার মতো অভিযোজনিক গুণাবলি ধারণ করে।
DNA ও RNA-এর মাধ্যমে জিনের সংকেত ধারণ করে এবং কোষ বিভাজনের মাধ্যমে তা পরবর্তী প্রজন্মে অবিকল স্থানান্তর করে।
প্রতিটি সজীব কোষের একটি নির্দিষ্ট জীবনকাল থাকে এবং নির্দিষ্ট সময় পর প্রোগ্রামড সেল ডেথ বা অপমৃত্যুর মাধ্যমে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
কোষটি একটি বৈষম্যভেদ্য প্লাজমামেমব্রেন দ্বারা আবৃত থাকে যা নির্দিষ্ট পদার্থের চলাচলকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
কোষবিদ্যা ও সর্বজনীন কোষতত্ত্ব Cytology & The Cell Theory
কোষবিদ্যার পরিভাষা, জনক এবং থিওডর সোয়ান, জ্যাকব শ্লেইডেন ও রুডলফ ভিরচও কর্তৃক প্রণীত বৈপ্লবিক কোষতত্ত্ব।
- উৎপত্তি: গ্রিক শব্দ Kytos (অর্থ: ফাঁপা গহ্বর/Cell) এবং Logos (অর্থ: আলোচনা/জ্ঞান) সমন্বয়ে সাইটোলজি গঠিত।
- কোষবিদ্যার জনক (Father of Cytology): বিজ্ঞানী রবার্ট হুক (Robert Hooke, 1635-1703)।
- আধুনিক কোষবিদ্যার জনক: মার্কিন বিজ্ঞানী কার্ল পি. সোয়ানসন (Carl P. Swanson, 1911-1996)।
- বিষয়বস্তু: কোষের গঠন, প্রকারভেদ, অঙ্গাণুসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম, কার্যপ্রণালী, কোষ বিভাজন ও রূপান্তর।
১৮৩৮-১৮৩৯ সালে জার্মান উদ্ভিদবিজ্ঞানী ম্যাথিয়াস জ্যাকব শ্লেইডেন (M. J. Schleiden) এবং প্রাণিবিজ্ঞানী থিওডর সোয়ান (Theodor Schwann) সমন্বিতভাবে কোষতত্ত্ব দেন। ১৮৫৫ সালে জার্মান চিকিৎসক রুডলফ ভিরচও (Rudolf Virchow) এতে যোগ করেন: "Omnis cellula e cellula" (পূর্বসৃষ্ট কোষ থেকেই নতুন কোষের সৃষ্টি হয়)।
- কোষ হলো জীবন্ত সত্ত্বার গাঠনিক, শারীরবৃত্তীয় ও সাংগঠনিক একক।
- কোষ হলো জীবনের মৌলিক একক।
- কোষ হলো বংশগতির একক।
- সর্বপ্রকার জীবই এক বা একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত এবং পূর্বসৃষ্ট কোষ থেকেই বিভাজনের মাধ্যমে নতুন কোষের উৎপত্তি হয়।
কোষের প্রকারভেদ ও শ্রেণিবিভাগ Classification & Types of Cells
শারীরবৃত্তীয় কাজের ভিত্তিতে, নিউক্লিয়াসের গঠনের ভিত্তিতে এবং পুষ্টির স্বভাব অনুযায়ী কোষের পূর্ণাঙ্গ বিভাজন।
- সংজ্ঞা: জীবের অঙ্গ ও অঙ্গতন্ত্র গঠনকারী ডিপ্লয়েড (2n) কোষকে দেহকোষ বলে।
- কোষ বিভাজন: মাইটোসিস (Mitosis) প্রক্রিয়ায় বৃদ্ধি পায়।
- উদাহরণ: উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড, পাতার কোষ; প্রাণীর স্নায়ুকোষ, রক্তকণিকা, পেশিকোষ ইত্যাদি।
- সংজ্ঞা: যৌন প্রজননের জন্য জননাঙ্গে মায়োসিস প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হ্যাপ্লয়েড (n) কোষকে গ্যামিট বলে।
- কোষ বিভাজন: মায়োসিস (Meiosis) প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়।
- উদাহরণ: পুংগ্যামিট (শুক্রাণু) ও স্ত্রীগ্যামিট (ডিম্বাণু)। জননকোষ সর্বদা হ্যাপ্লয়েড।
- গ্রিক Pro (আগে) + karyon (নিউক্লিয়াস)।
- সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও আবরণীবেষ্টিত অঙ্গাণু নেই।
- হিস্টোন প্রোটিনবিহীন একটিমাত্র বৃত্তাকার DNA সাইটোপ্লাজমে মুক্তভাবে থাকে, যাকে নিউক্লিঅয়েড (Nucleoid) বলে।
- রাইবোসোম 70S প্রকৃতির। দ্বি-ভাজন বা অ্যামাইটোসিসে বিভাজিত হয়।
- উদাহরণ: সকল ব্যাকটেরিয়া (E. coli), সায়ানোব্যাকটেরিয়া (BGA), মাইকোপ্লাজমা। মনেরা রাজ্যের সকল জীব।
- গ্রিক Eu (সু/উন্নত) + karyon (নিউক্লিয়াস)।
- দ্বি-স্তরবিশিষ্ট আবরণীবেষ্টিত সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিদ্যমান।
- DNA ও হিস্টোন প্রোটিন সমন্বয়ে গঠিত সুত্রাকার একাধিক প্রকৃত ক্রোমোজোম থাকে।
- আবরণীযুক্ত অঙ্গাণু (মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, গলগিবস্তু ইত্যাদি) উপস্থিত। রাইবোসোম 80S (সাইটোসল)।
- উদাহরণ: শৈবাল, ছত্রাক, ব্রায়োফাইটস, টেরিডোফাইটস, জিম্নোস্পার্ম, অ্যাঞ্জিওস্পার্ম ও সকল প্রাণী।
- স্বভোজী কোষ (Autotrophic): কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকায় সূর্যালোক ও অজৈব পদার্থ দিয়ে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করতে পারে (যেমন- উদ্ভিদ কোষ, সায়ানোব্যাকটেরিয়া)।
- পরভোজী কোষ (Heterotrophic): ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে না; খাদ্যের জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীল (যেমন- ছত্রাক, প্রাণী কোষ)।
- জাইগোট ও ভ্রূণের যে অবিভেদিত (Undifferentiated) কোষ বারবার অসংখ্যবার বিভাজিত হয়ে যেকোনো ধরনের অঙ্গ/কলা গঠন করতে পারে।
- মানবদেহের অস্থিমজ্জা, ত্বক, লিভারে স্টেম সেল বিদ্যমান থাকে যা রিজেনারেশন ঘটায়।
আদিকোষ ও প্রকৃতকোষের তুলনামূলক পার্থক্য Prokaryotic vs Eukaryotic Cells
বোর্ড পরীক্ষা ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় বারবার আসা ১২টি সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক চার্ট।
| তুলনার বৈশিষ্ট্য | আদিকোষ (Prokaryotic Cell) | প্রকৃতকোষ (Eukaryotic Cell) |
|---|---|---|
| ১. নিউক্লিয়াস | অগঠিত; আবরণী ঝিল্লি, নিউক্লিওপ্লাজম ও নিউক্লিওলাস নেই (নিউক্লিঅয়েড)। | সুগঠিত; ডাবল আবরণী ঝিল্লি, নিউক্লিওপ্লাজম ও নিউক্লিওলাস উপস্থিত। |
| ২. DNA ও ক্রোমোজোম | বৃত্তাকার (Circular) ১টি; নন-হিস্টোন যুক্ত (প্রকৃত ক্রোমোজোম নয়)। | সূত্রাকার (Linear) একাধিক; হিস্টোন প্রোটিন যুক্ত প্রকৃত ক্রোমোজোম। |
| ৩. আবরণীবেষ্টিত অঙ্গাণু | সম্পূর্ণ অনুপস্থিত (মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি, ইআর নেই)। | উপস্থিত (মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, লাইসোসোম ইত্যাদি)। |
| ৪. রাইবোসোম | 70S (50S + 30S সাবইউনিট) | 80S (60S + 40S সাইটোসলে; অঙ্গাণুতে 70S) |
| ৫. সাইটোস্কেলিটন | থাকে না (অনুপস্থিত)। | উপস্থিত (মাইক্রোটিউবিউলস, মাইক্রোফিলামেন্ট)। |
| ৬. RNA পলিমারেজ | ১ প্রকার RNA পলিমারেজ থাকে। | ৩ প্রকার (Pol I, II, III) পলিমারেজ থাকে। |
| ৭. অপেরন (Operon) | অপেরন বিদ্যমান থাকে। | সাধারণত অপেরন থাকে না। |
| ৮. জিনের গঠন | ইন্ট্রনস (Introns) নেই (কেবল এক্সন থাকে)। | ইন্ট্রনস (Introns) বিদ্যমান। |
| ৯. কোষ বিভাজন | অ্যামাইটোসিস বা দ্বি-ভাজন (Binary Fission)। | মাইটোসিস ও মায়োসিস প্রক্রিয়া। |
| ১০. শ্বসন প্রক্রিয়া | অবাত শ্বসন (Anaerobic / মেসোসোমে)। | সবাত শ্বসন (Aerobic / মাইটোকন্ড্রিয়ায়)। |
| ১১. ট্রান্সলেশন | ট্রান্সক্রিপশনের সাথে সাথেই যুগপৎ শুরু হয়। | ট্রান্সক্রিপশন ও প্রসেসিং শেষ হওয়ার পর সাইটোপ্লাজমে বিলম্বে শুরু হয়। |
একটি আদর্শ উদ্ভিদকোষের সূক্ষ্ম গঠন Ultra-Structure of Plant Cell
নিচের ইন্টার্যাক্টিভ উদ্ভিদকোষের বিভিন্ন অঙ্গাণুতে ক্লিক করুন এবং তাদের বিশদ ভূমিকা ও গঠন জানুন।
উদ্ভিদকোষের প্লাজমামেমব্রেনের বাইরে অবস্থিত সেলুলোজ নির্মিত জড় ও স্থিতিস্থাপক প্রাচীর। এটি কোষকে নির্দিষ্ট আকৃতি দেয়, দৃঢ়তা জোগায় এবং ভেতরের সজীব প্রোটোপ্লাজমকে রক্ষা করে।
উদ্ভিদকোষ বনাম প্রাণীকোষ Plant Cell vs Animal Cell
কোষপ্রাচীর, প্লাস্টিড, কোষগহ্বর ও সেন্ট্রোসোমের উপস্থিতির ভিত্তিতে উদ্ভিদ ও প্রাণীকোষের প্রধানতম বৈসাদৃশ্য।
- কোষপ্রাচীর: কোষঝিল্লির বাইরে সেলুলোজ নির্মিত সুদৃঢ় ও পুরু জড় কোষপ্রাচীর বিদ্যমান।
- প্লাস্টিড: সাইটোপ্লাজমে সালোকসংশ্লেষণকারী প্লাস্টিড (ক্লোরোপ্লাস্ট) উপস্থিত।
- কোষ গহ্বর (Vacuole): পরিণত কোষে কেন্দ্রে একটি সুস্পষ্ট ও অত্যন্ত বৃহৎ কোষ গহ্বর থাকে।
- সেন্ট্রোসোম: নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ ব্যতীত উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সেন্ট্রোসোম সাধারণত থাকে না।
- সঞ্চিত খাদ্য: প্রধান সঞ্চিত খাদ্য হলো শ্বেতসার বা স্টার্চ (Starch)।
- আন্তঃকোষীয় সংযোগ: প্রাচীরে প্লাজমোডেজমাটা সূক্ষ্ম নালিকা দিয়ে সংযোগ গঠিত।
- কোষপ্রাচীর: কোনো জড় কোষপ্রাচীর থাকে না (কেবল নমনীয় প্লাজমামেমব্রেন বিদ্যমান)।
- প্লাস্টিড: প্লাস্টিড সম্পূর্ণ অনুপস্থিত; তাই পরভোজী।
- কোষ গহ্বর: সাধারণত অনুপস্থিত; থাকলেও অতি ক্ষুদ্র ও অসংখ্য।
- সেন্ট্রোসোম: নিউক্লিয়াসের নিকটে সেন্ট্রিওলযুক্ত সেন্ট্রোসোম উপস্থিত যা কোষ বিভাজনে অ্যাস্টার-রে তৈরি করে।
- সঞ্চিত খাদ্য: প্রধান সঞ্চিত খাদ্য হলো গ্লাইকোজেন (Glycogen) ও চর্বি।
- আন্তঃকোষীয় সংযোগ: ডেসমোজোম, টাইট জংশন ও গ্যাপ জংশন উপস্থিত।
কোষপ্রাচীরের ভৌত গঠন ও স্তরবিন্যাস Physical Structure of Cell Wall
কোষ বিভাজনের টেলোফেজ পর্যায় থেকে শুরু করে মধ্যপর্দা, প্রাইমারি প্রাচীর ও ৩-স্তরীয় সেকেন্ডারি প্রাচীরের সৃষ্টি।
- সৃষ্টির সময়: মাইটোটিক কোষ বিভাজনের টেলোফেজ (Telophase) পর্যায়ে এর সূচনা ঘটে।
- উৎপত্তি: সাইটোপ্লাজম থেকে আসা ফ্র্যাগমোপ্লাস্ট (Phragmoplast) এবং গলগিবডি থেকে আসা পেকটিন জাতীয় ভেসিকল মিলিত হয়ে এটি সৃষ্টি করে।
- রাসায়নিক উপাদান: এতে প্রচুর পেকটিক অ্যাসিড ও ক্যালসিয়াম/ম্যাগনেসিয়াম পেকটেট থাকে যা জেলির মতো দুটি পাশাপাশি কোষকে একসাথে জোড়া লাগিয়ে সিমেন্টের মতো কাজ করে।
- অবস্থান ও পুরুত্ব: মধ্যপর্দার ওপর সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ ও গ্লাইকোপ্রোটিন জমা হয়ে ১-৩ µm পুরু একটি পাতলা স্তর তৈরি করে।
- জমা হওয়ার সময়: কোষ বৃদ্ধির প্রাথমিক দশায় মধ্যপর্দার উভয় অন্তঃতলে তৈরি হয়।
- বৈশিষ্ট্য: পাতলা ও নমনীয় হওয়ায় কোষের প্রসারণে বাধা দেয় না।
- গঠনকাল: কোষের বৃদ্ধি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পর প্রাথমিক প্রাচীরের ভেতরের দিকে সেলুলোজ ও লিগনিন (Lignin) জমা হয়ে এটি গঠিত হয় (পুরুত্ব: ৫-১০ µm)।
- স্তর: এটি ৩টি স্তরবিশিষ্ট (S1, S2, S3) হয়।
- যেখানে থাকে না: ভাজক কোষ (Meristematic cells) এবং অধিক বিপাকীয় কোষে সেকেন্ডারি প্রাচীর তৈরি হয় না। ট্রাকিড ও ফাইবারে সুস্পষ্ট থাকে।
মধ্যপর্দার ওপর মাঝে মাঝে প্রাথমিক প্রাচীর সৃষ্টি না হওয়ার ফলে যে সরু নলাকার ফাঁকা গর্তের সৃষ্টি হয়, তাকে কূপ (Pit) বলে। পাশাপাশি দুটি কোষের মুখোমুখি কূপকে পিট পেয়ার (Pit Pair) বলে। মুখোমুখি দুটি কূপের মধ্যবর্তী মধ্যপর্দাকে পিট মেমব্রেন বলে। সেকেন্ডারি প্রাচীর গঠনে এটি পাড়হীন বা পাড়যুক্ত (Bordered Pit) হতে পারে।
পাশাপাশি দুটি উদ্ভিদকোষের কোষপ্রাচীরের সূক্ষ্ম ছিদ্রপথে যে নলাকার সাইটোপ্লাজমিক সংযোগ স্থাপিত হয়, তাকে প্লাজমোডেজমাটা (Plasmodesmata) (একবচনে: প্লাজমোডেসমা) বলে। এর মধ্য দিয়ে এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের ডেসমোটিউবিউল (Desmotubule) অতিক্রম করে আন্তঃকোষীয় খাদ্য ও সংকেত পরিবহন সম্পন্ন করে।
কোষপ্রাচীরের রাসায়নিক গঠন ও পরা-আণবিক কাঠামো Chemical & Macromolecular Architecture
সেলুলোজের অনুক্রমিক পলিমারাইজেশন: গ্লুকোজ অণু থেকে কীভাবে মাইসেলি, মাইক্রোফাইব্রিল এবং সুদৃঢ় ফাইবার তৈরি হয়।
- ছত্রাকের কোষপ্রাচীর: কাইটিন (Chitin) নির্মিত (এন-অ্যাসিটাইল গ্লুকোসামিনের পলিমার)।
- ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর: পেপটিডোগ্লাইকান / মিউকোপ্রোটিন (লিপিড-প্রোটিন পলিমার)।
- কোষের সুনির্দিষ্ট আকৃতি প্রদান এবং যান্ত্রিক শক্তি ও দৃঢ়তা দান করে।
- বাহ্যিক আঘাত থেকে ভেতরের সজীব প্রোটোপ্লাজমকে রক্ষা করে।
- প্লাজমোডেজমাটা নালীর মাধ্যমে পানি ও খনিজ লবণ শোষণ ও অন্তঃকোষীয় সংকেত পরিবহনে সহায়তা করে।
ইন্টারেক্টিভ কুইজ ও প্রস্তুতি যাচাই Live Chapter Quiz & Flashcard Test
বিগত বছরের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ও বোর্ড পরীক্ষায় আসা গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নের মাধ্যমে নিজের দক্ষতা যাচাই করুন।
এক নজরে সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সূত্র Comprehensive Revision Flashcards
পরীক্ষার আগের রাতে দ্রুত চোখ বুলিয়ে নেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারক ও সংখ্যামান।
- রবার্ট হুক (1665): কোষ আবিষ্কার, 'Micrographia' গ্রন্থ।
- রবার্ট ব্রাউন (1831): নিউক্লিয়াস আবিষ্কার।
- পারকিনজে (1840): প্রোটোপ্লাজম নামকরণ।
- হাক্সলে: প্রোটোপ্লাজমকে "জীবনের ভৌত ভিত্তি" বলেন।
- কার্ল পি. সোয়ানসন: আধুনিক কোষবিদ্যার জনক।
- শ্লেইডেন ও সোয়ান: কোষতত্ত্বের প্রবক্তা।
- ক্ষুদ্রতম কোষ: PPLO (0.1 µm)
- সবচেয়ে বড় কোষ: উটপাখির ডিম (17 × 12.5 cm)
- দীর্ঘতম উদ্ভিদ কোষ: র্যামি তন্তু (55 cm)
- দীর্ঘতম মানব কোষ: নিউরন (1.37 m)
- প্রাইমারি প্রাচীরের পুরুত্ব: 1-3 µm
- সেকেন্ডারি প্রাচীরের পুরুত্ব: 5-10 µm (৩ স্তর)
- ১,০০০–৩,০০০ গ্লুকোজ = ১টি সেলুলোজ চেইন
- ১০০টি সেলুলোজ চেইন = ১টি মাইসেলি
- ২০টি মাইসেলি = ১টি মাইক্রোফাইব্রিল
- ২৫০টি মাইক্রোফাইব্রিল = ১টি ম্যাক্রোফাইব্রিল
- ম্যাক্রোফাইব্রিল মিলে = তন্তু বা ফাইবার